নওগাঁর আত্রাই উপজেলার জামগ্রামে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সীতাদেবী স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহ্যবাহী সীতাতলার মেলা শুরু হয়েছে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) থেকে শুরু হওয়া এই মেলা চলবে টানা তিন দিন। তবে মেলাকে ঘিরে বেচা-কেনা ও উৎসবের আমেজ আরও কয়েক দিন ধরে অব্যাহত থাকবে।
উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার উত্তরে ভোঁপাড়া ইউনিয়নের নিভৃত পল্লী জামগ্রামে প্রতিবছর পৌষ মাসের শেষ দিনে সীতাতলা মণ্ডপে রাম-সীতার পূজা অনুষ্ঠিত হয়। পরদিন মাঘ মাসের প্রথম দিন থেকে শুরু হয় তিন দিনব্যাপী এই মেলা। একসময় বর্ষাকালে নৌকাই ছিল একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম এবং শুষ্ক মৌসুমে পায়ে হেঁটে চলাচল করতে হতো। বর্তমানে পাকা সড়ক নির্মাণ হওয়ায় আত্রাই উপজেলা সদর থেকে ভোঁপাড়া, তিলাবদুরী ও শাহাগোলা হয়ে মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল ও ভ্যানে সরাসরি জামগ্রামে যাতায়াত করা যাচ্ছে।
মেলায় শাড়ি-লুঙ্গি, বাঁশ ও কাঠের তৈরি আসবাবপত্র, লোহার সামগ্রী, শিশুদের খেলনা, কসমেটিকস, মিষ্টান্নসহ বড় মাছের কেনাবেচা হচ্ছে। নওগাঁসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজারো মানুষ মেলায় ভিড় করছেন। মেলাকে কেন্দ্র করে জামগ্রাম ও পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতে সাজসাজ রব নেমে এসেছে। আত্মীয়-স্বজনের আগমনে মুখরিত হয়ে উঠেছে প্রায় প্রতিটি বাড়ি। তৈরি হচ্ছে নানা ধরনের পিঠা ও মিষ্টান্ন।
মেলাকে ঘিরে এলাকায় জামাই আদর রেওয়াজ বিশেষভাবে লক্ষণীয়। মেলা উপলক্ষে জামাই-মেয়েকে দাওয়াত দিয়ে শ্বশুরবাড়িতে আনা হয়। জামাই মেলা থেকে বড় মাছ ও মিষ্টি নিয়ে যান, আর শ্বশুর পক্ষ থেকে জামাইকে উপহার দেওয়া হয়, এটাই দীর্ঘদিনের সামাজিক রীতি।
স্থানীয়দের মতে, যুগ যুগ ধরে চলে আসা এই মেলাটি জামগ্রামের মেলা বা পৌষ মেলা নামেও পরিচিত। ইতিহাস বলছে, আত্রাইয়ের পাঁচুপুর এলাকার জমিদার বাবুরা এ মেলার সূচনা করলেও বর্তমানে গ্রামবাসী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাই এর পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছেন। লোককথা অনুযায়ী, শত শত বছর আগে রামচন্দ্র তাঁর স্ত্রী সীতাদেবীকে এই এলাকায় বনবাস দিয়েছিলেন। বনবাসকালে জামগ্রামের একটি প্রকাণ্ড বটগাছের নিচে তিনি আশ্রয় নেন এবং পাশের একটি ইন্দারার পানি ব্যবহার করতেন। কথিত আছে, বিশ্বকর্মা এক রাতেই ওই ইন্দারাটি নির্মাণ করেছিলেন। সীতাদেবীর নামানুসারেই মেলার নামকরণ করা হয়েছে ‘সীতাতলার মেলা।
শুরুর দিকে এটি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমানে মেলাটি হিন্দু-মুসলিম সবার মিলনমেলায় রূপ নিয়েছে। বগুড়া, নাটোর, জয়পুরহাট, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, দিনাজপুর, গাইবান্ধা ও রাজশাহীসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে দর্শনার্থীরা মেলায় এসে কেনাকাটা ও বিনোদনে অংশ নিচ্ছেন।
জামগ্রামের গৃহবধূ মনোয়ারা বেগম (৫৫) বলেন, ছোটবেলা থেকেই এই মেলা দেখে আসছি। বাপ-দাদাদের মুখে মেলার অনেক গল্প শুনেছি। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মানুষ এখানে আসে, এটাই আমাদের গর্ব।
নিরাপত্তা বিষয়ে আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আব্দুল করিম বলেন, উত্তরবঙ্গজুড়ে সীতাতলার মেলার সুখ্যাতি রয়েছে। মেলায় আগত দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক পুলিশ মোতায়েন থাকবে। জুয়া, লটারি কিংবা কোনো অসামাজিক কার্যক্রম যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে আমরা সতর্ক রয়েছি। আশা করছি, গত বছরের মতো এবারও মেলা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মেলাকে কেন্দ্র করে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণভাবে মেলা সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এই মেলা শুধু ধর্মীয় আচার নয়, বরং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও গ্রামীণ সংস্কৃতির এক উজ্জ্বল নিদর্শন। একই সঙ্গে মেলাকে ঘিরে স্থানীয় অর্থনীতিতেও সৃষ্টি হয়েছে সাময়িক প্রাণচাঞ্চল্য।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) থেকে শুরু হওয়া এই মেলা চলবে টানা তিন দিন। তবে মেলাকে ঘিরে বেচা-কেনা ও উৎসবের আমেজ আরও কয়েক দিন ধরে অব্যাহত থাকবে।
উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার উত্তরে ভোঁপাড়া ইউনিয়নের নিভৃত পল্লী জামগ্রামে প্রতিবছর পৌষ মাসের শেষ দিনে সীতাতলা মণ্ডপে রাম-সীতার পূজা অনুষ্ঠিত হয়। পরদিন মাঘ মাসের প্রথম দিন থেকে শুরু হয় তিন দিনব্যাপী এই মেলা। একসময় বর্ষাকালে নৌকাই ছিল একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম এবং শুষ্ক মৌসুমে পায়ে হেঁটে চলাচল করতে হতো। বর্তমানে পাকা সড়ক নির্মাণ হওয়ায় আত্রাই উপজেলা সদর থেকে ভোঁপাড়া, তিলাবদুরী ও শাহাগোলা হয়ে মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল ও ভ্যানে সরাসরি জামগ্রামে যাতায়াত করা যাচ্ছে।
মেলায় শাড়ি-লুঙ্গি, বাঁশ ও কাঠের তৈরি আসবাবপত্র, লোহার সামগ্রী, শিশুদের খেলনা, কসমেটিকস, মিষ্টান্নসহ বড় মাছের কেনাবেচা হচ্ছে। নওগাঁসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজারো মানুষ মেলায় ভিড় করছেন। মেলাকে কেন্দ্র করে জামগ্রাম ও পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতে সাজসাজ রব নেমে এসেছে। আত্মীয়-স্বজনের আগমনে মুখরিত হয়ে উঠেছে প্রায় প্রতিটি বাড়ি। তৈরি হচ্ছে নানা ধরনের পিঠা ও মিষ্টান্ন।
মেলাকে ঘিরে এলাকায় জামাই আদর রেওয়াজ বিশেষভাবে লক্ষণীয়। মেলা উপলক্ষে জামাই-মেয়েকে দাওয়াত দিয়ে শ্বশুরবাড়িতে আনা হয়। জামাই মেলা থেকে বড় মাছ ও মিষ্টি নিয়ে যান, আর শ্বশুর পক্ষ থেকে জামাইকে উপহার দেওয়া হয়, এটাই দীর্ঘদিনের সামাজিক রীতি।
স্থানীয়দের মতে, যুগ যুগ ধরে চলে আসা এই মেলাটি জামগ্রামের মেলা বা পৌষ মেলা নামেও পরিচিত। ইতিহাস বলছে, আত্রাইয়ের পাঁচুপুর এলাকার জমিদার বাবুরা এ মেলার সূচনা করলেও বর্তমানে গ্রামবাসী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাই এর পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছেন। লোককথা অনুযায়ী, শত শত বছর আগে রামচন্দ্র তাঁর স্ত্রী সীতাদেবীকে এই এলাকায় বনবাস দিয়েছিলেন। বনবাসকালে জামগ্রামের একটি প্রকাণ্ড বটগাছের নিচে তিনি আশ্রয় নেন এবং পাশের একটি ইন্দারার পানি ব্যবহার করতেন। কথিত আছে, বিশ্বকর্মা এক রাতেই ওই ইন্দারাটি নির্মাণ করেছিলেন। সীতাদেবীর নামানুসারেই মেলার নামকরণ করা হয়েছে ‘সীতাতলার মেলা।
শুরুর দিকে এটি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমানে মেলাটি হিন্দু-মুসলিম সবার মিলনমেলায় রূপ নিয়েছে। বগুড়া, নাটোর, জয়পুরহাট, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, দিনাজপুর, গাইবান্ধা ও রাজশাহীসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে দর্শনার্থীরা মেলায় এসে কেনাকাটা ও বিনোদনে অংশ নিচ্ছেন।
জামগ্রামের গৃহবধূ মনোয়ারা বেগম (৫৫) বলেন, ছোটবেলা থেকেই এই মেলা দেখে আসছি। বাপ-দাদাদের মুখে মেলার অনেক গল্প শুনেছি। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মানুষ এখানে আসে, এটাই আমাদের গর্ব।
নিরাপত্তা বিষয়ে আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আব্দুল করিম বলেন, উত্তরবঙ্গজুড়ে সীতাতলার মেলার সুখ্যাতি রয়েছে। মেলায় আগত দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক পুলিশ মোতায়েন থাকবে। জুয়া, লটারি কিংবা কোনো অসামাজিক কার্যক্রম যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে আমরা সতর্ক রয়েছি। আশা করছি, গত বছরের মতো এবারও মেলা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মেলাকে কেন্দ্র করে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণভাবে মেলা সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এই মেলা শুধু ধর্মীয় আচার নয়, বরং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও গ্রামীণ সংস্কৃতির এক উজ্জ্বল নিদর্শন। একই সঙ্গে মেলাকে ঘিরে স্থানীয় অর্থনীতিতেও সৃষ্টি হয়েছে সাময়িক প্রাণচাঞ্চল্য।
তাসমিরা তাবাসসুম :